নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নির্বাচনী রাজনীতির মেরুকরণে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে নবগঠিত দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’তে (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট গঠনকে কেন্দ্র করে আদর্শিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এই দ্বন্দের জেরে এরই মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন, যার পরপরই দলের অন্য তিন শীর্ষ নেত্রীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
আদর্শিক ফাটল ও ডা. জারার পদত্যাগ
শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে ইচ্ছুক ডা. তাসনিম জারা। তিনি স্পষ্ট জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ফান্ড রেইজিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দাতাদের ফিরিয়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংহতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়: কীসের ইঙ্গিত?
জারার পদত্যাগের পরপরই এনসিপির তিন প্রভাবশালী নারী নেত্রীর ফেসবুক পোস্ট দলের ভেতরকার অস্থিরতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
সামান্তা শারমিন (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক): তিনি লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই ছাড়বো না। আল্লাহ সহায়।’ তার এই মন্তব্যকে অনেকে চাপের মুখেও অবস্থান ধরে রাখার প্রত্যয় হিসেবে দেখছেন।
নুসরাত (শীর্ষ নেত্রী): নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন থাকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘নীতির চাইতে রাজনীতি বড় না। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট...’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতিবিচ্যুতির প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন সমালোচনা।
ডা. মাহমুদা মিতু (যুগ্ম সদস্য সচিব): সবচেয়ে কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন এই নেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘চাটুকারিতা ও দালালি যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে স্পষ্ট, সচেতন না হলে দমন-পীড়নের দিন আবার ফিরে আসবেই।’ তার এই মন্তব্য দলে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার বা তোষামোদি রাজনীতির দিকে ইঙ্গিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাল আসতে পারে জোটের ঘোষণা
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রোববারই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা আসতে পারে। মূলত এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। ডা. জারার পদত্যাগের পর অন্য শীর্ষ নেতারাও পদত্যাগ করবেন কি না, কিংবা তারা দলের ভেতরে থেকেই প্রতিবাদ জানাবেন কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী এনসিপি যদি শুরুতেই আদর্শিক দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে আসন্ন নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ‘নীতির প্রশ্নে’ অটল থাকার এই ঘোষণাগুলো কি নতুন কোনো নাটকীয়তার ইঙ্গিত, তা হয়তো আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হবে।