শিবগঞ্জে বৃদ্ধা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা পুলিশের জালে; স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো হাড়হিম করা তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া |
বগুড়ার শিবগঞ্জে বহুল আলোচিত শাহানাজ বেগম (৭১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। আর্থিক সংকটে পড়ে পাওনাদারদের দেনা মেটাতে মা ও ছেলে মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মা সুলতানা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সুলতানা বেগমের ছেলে রোহান রহমান ওরফে সিয়াম (৩০) বিদেশ থেকে ফেরার পর ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিপুল পরিমাণ ঋণের কারণে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। দেনা পরিশোধের জন্য মা ও ছেলে মিলে এমন বাড়ি টার্গেট করতেন যেখানে সচরাচর পুরুষ মানুষ থাকে না। তারা কৌশলে ওইসব বাড়ির নারীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলে চুরির পরিকল্পনা করতেন।
মামলার বিবরণ ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নন্দীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মৃত সৈয়দ আমজাদ হোসেনের বাড়িতে যান সুলতানা বেগম ও তার ছেলে সিয়াম। তারা নিহতের পুত্রবধূর সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে কৌশলে পুত্রবধূকে অন্য ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে সুলতানা ও সিয়াম বৃদ্ধা শাহানাজ বেগমের কাছে টাকা ধার চান। শাহানাজ বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জিম্মি করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুলতানার সহযোগিতায় তার ছেলে সিয়াম ধারালো চাকু দিয়ে শাহানাজ বেগমের গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করেন।
ঘটনার পর গত ৬ এপ্রিল রাতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার কৃপা গ্রাম থেকে সুলতানা বেগমকে গ্রেফতার করে। তবে তার ছেলে সিয়াম বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি সুলতানা বেগমকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।