১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

২৪ এপ্রিল, ২০২৬

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে আলোচনায় তৃণমূলের আস্থাভাজন হামিদুল হক চৌধুরী হিরু

মিজানুর রহমান আশিক প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ন
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে আলোচনায় তৃণমূলের আস্থাভাজন হামিদুল হক চৌধুরী হিরু

 

সদ্য ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম খুব দ্রুতই শুরু করতে পারে সরকার। এই নবসৃষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রথম 'প্রশাসক' হিসেবে কার নাম আসছে, তা নিয়ে এখন উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় চলছে সরগরম আলোচনা।

বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম শোনা গেলেও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ হামিদুল হক চৌধুরী হিরু।

 

​দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হামিদুল হক চৌধুরী হিরু নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, নবগঠিত সিটি করপোরেশনের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও স্থানীয় রাজনীতির নাড়ি নক্ষত্র জানা ব্যক্তির প্রয়োজন।

অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু ১৯৮৭ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে রাজপথে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ১৯৮৯-৯০ সেশনে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ১৯৯০-৯১ সেশনে এজিএস (AGS) নির্বাচিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

​ছাত্র রাজনীতির পর মূল দল বিএনপিতেও তিনি রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। ২০০২ ও ২০০৬ সালে বগুড়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি সফল। তিনি পরপর দুইবার (২০০৩-২০০৭) বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডাইরেক্টর এবং পরপর তিনবার বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

 

​বগুড়া পৌরসভার সিটি করপোরেশনে উত্তরণ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। নবগঠিত এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি শক্ত করতে একজন দক্ষ ও সৎ প্রশাসকের বিকল্প নেই। স্থানীয়রা মনে করছেন, হিরু যেহেতু আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন শহর রাজনীতির শীর্ষে রয়েছেন, তাই শহরের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা রয়েছে।

 

​শহর বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী জানান, "হিরু ভাই এমন একজন মানুষ যিনি সব সময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন। প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়োগ দিলে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাজ যেমন গতি পাবে, তেমনি সাধারণ মানুষের অধিকারও নিশ্চিত হবে।"

 

​এই বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানান, তিনি আজীবন বগুড়ার মানুষের সেবা করে আসছেন। দল এবং সরকার তাকে যে দায়িত্বই দেবে, তিনি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করতে প্রস্তুত।

 

​বগুড়াবাসী এখন অপেক্ষায় আছেন—কার হাতে উঠতে যাচ্ছে এই নতুন সিটি করপোরেশনের পরিচালনার চাবিকাঠি। তবে যোগ্যতার মানদণ্ডে অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু যে অনেকটা এগিয়ে আছেন, তা সাধারণ মানুষের আলোচনাতেই স্পষ্ট।