১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দিনে বৈধ ব্যবসা, রাতে ভয়ংকর সিন্ডিকেট

বগুড়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অবৈধ সিলিন্ডার ভরার মহোৎসব

মাজেদুর রহমান প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫, ৬:০৯ অপরাহ্ন
বগুড়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অবৈধ সিলিন্ডার ভরার মহোৎসব
 
 
মাজেদুর রহমানঃ
দিনের বেলায় সাধারণ যাত্রীদের গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও রাতের আঁধারে রূপ বদলায় বগুড়ার একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন। মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত কার্গো ট্রাকে করে শত শত খালি সিলিন্ডার আনা হয় এসব স্টেশনে, আর গোপনে চলে অবৈধ গ্যাস ভরার মহোৎসব। এভাবেই কোটি টাকার অবৈধ গ্যাস ব্যবসা গড়ে উঠেছে শহর ও আশপাশের এলাকায়।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বগুড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শরীফ সিএনজি লিমিটেড এবং শাজাহানপুর উপজেলার আকিজ গ্যাস স্টেশন লিমিটেডে রাতভর চলছে এ ধরনের কার্যক্রম। স্থানীয়রা বলছেন, বৈধ ব্যবসার আড়ালে এই সিন্ডিকেট শুধু সিএনজি চালকদের ক্ষতিই করছে না, বরং হাজারো মানুষের জীবনকেও ফেলছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে।
 
একজন সিএনজি চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সারাদিন খেটে যা আয় করি, তার অর্ধেক চলে যায় গ্যাসে। অথচ রাতের আঁধারে স্টেশনগুলো কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আমাদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখছে না।”
 
গ্যাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাকভর্তি সিলিন্ডার রাস্তার পাশে রাখা হলে একটি ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ কিংবা সিগারেটের আগুনই মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। অতীতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের নজিরও রয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের বগুড়া নর্থ রিজিওনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি কেবল সতর্কবার্তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। সাংবাদিকরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, “আমাদের কাছে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
 
অন্যদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে খবর পেয়েছি। প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 
স্থানীয়রা বলছেন, দিনের বেলায় বৈধ ব্যবসার আড়ালে রাতের বেলায় এই স্টেশনগুলো বিপজ্জনক কারবার চালাচ্ছে। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
 
বগুড়ার সিএনজি ফিলিং স্টেশনের এই অবৈধ সিন্ডিকেট এখন যেন সময়ের অপেক্ষায় থাকা এক বিস্ফোরক টাইম বোমা। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।