দোকান আছে বিক্রেতা নেই, শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব ‘সততা স্টোর
মোঃ মোকাররম হোসাইন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
১৬.৯.২৬
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে জয়পুরহাটের কালাইয়ে চালু হলো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘সততা স্টোর’। দোকানে কোনো বিক্রেতা নেই, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পছন্দের পণ্য নিয়ে মূল্য তালিকা দেখে পাশের ক্যাশ বাক্সে টাকা রেখে যাবে।
বুধবার সকালে কাকলি শিশু নিকেতন ও সদর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সততা স্টোরের উদ্বোধন করেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সল আহমেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ও উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ স্টোর পরিচালিত হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সততা স্টোরে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পেন্সিল বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও খাবার সামগ্রী রাখা হবে। কোনো শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে চাইলে মূল্য তালিকা দেখে নিজ হাতে পণ্য নিয়ে নির্ধারিত মূল্য ক্যাশ বাক্সে রেখে যাবে। দোকানে কোনো বিক্রেতা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিই নির্ভর করবে শিক্ষার্থীর সততা ও দায়িত্ববোধের ওপর।
এ ছাড়া কোনো পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলে শিক্ষার্থীরা প্রি-অর্ডার রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় পণ্যের নাম লিখে অর্ডার দিতে পারবে।
পরে বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা হিসেবে ‘অভিভাবক অপেক্ষাগার’ উদ্বোধন করেন ইউএনও ফয়সল আহমেদ।
সততা স্টোর নিয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা ও সোনিয়া জানায়, এমন উদ্যোগে নিজেদের সততা প্রমাণের সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, স্টোরটি একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে নিয়মিত সততা চর্চার মাধ্যমে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার চর্চা বাড়ানো এবং সততাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, ছোটবেলা থেকেই এমন চর্চা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।