১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আদমদীঘিতে শিল্পবর্জ্যে রক্তদহ বিলে জীববৈচিত্র্যের সংকট

রবিউল ইসলাম রবীন/আদমদিঘী প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫, ৫:০৫ অপরাহ্ন
আদমদীঘিতে শিল্পবর্জ্যে রক্তদহ বিলে জীববৈচিত্র্যের সংকট

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় গড়ে উঠেছে ডজনখানেক স্বয়ংক্রিয় চাল কারখানা। তবে এসব কারখানার একটিতেও নেই পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট)। প্রতিদিনই এসব কারখানার দূষিত পানি রক্তদহ বিলে এসে পড়ছে। এতে পানি দূষিত হয়ে মরছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী।

দূষিত পানির দুর্গন্ধে পাশের কয়েকটি গ্রামে মানুষ মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। মাছ মরে যাওয়ায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বহু পরিবার এখন বেকার হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সান্তাহার শহরের খাড়রি সেতু এলাকা ও আশপাশের রক্তদহ বিলে গড়ে উঠা প্রায় একডজন চাল কারখানার কোনোটিতেই নেই পানি শোধনাগার। ফলে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি খালে গিয়ে সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণীর জন্য বিপদ সৃষ্টি করছে। সারাবছর এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় খাল ও বিলের পানি সম্পূর্ণ দূষিত হয়ে পড়েছে।

প্রসাদখালী গ্রামের মৎস্যজীবী সুজতি হালদার জানান, বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরেই তারা সারাবছর সংসার চালান। কিন্তু চলতি বছরে কারখানার দূষিত পানি বিলের মধ্যে পড়ার পর তারা মাছ ধরতে পারছেন না। অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেননি।

দমদমা গ্রামের সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম বলেন, “দূষিত পানির দুর্গন্ধে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দূষিত পানিতে কাজ করা অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গরু-ছাগলও পানি পান করে অসুস্থ হচ্ছে।”

কাশমিলিয়া গ্রামের আয়নুল হক জানান, “এভাবে দূষিত পানি চলতে থাকলে রক্তদহ বিল সম্পূর্ণ মাছশূন্য হয়ে যাবে।”

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মালিক বলেন, “সান্তাহার শহরে স্বয়ংক্রিয় চাল কারখানার কোনোটিতেই পানি শোধনাগার নেই। তবে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেব।”