স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে বোন ম্যারো (স্টেম সেল) ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করেছে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার। এর মধ্য দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়।
রংপুর জেলার ভান্ডাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মো. মিজানুর রহমানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেন টিএমএসএস হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। রোগীর প্রথম রোগ শনাক্ত হয় ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা গ্রহণের পর প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিস্তারিত পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। সেই ধারাবাহিকতায় টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ, চিকিৎসাকালীন চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে থেকেও জটিল ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদানে দেশের চিকিৎসকদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোটারিয়ান অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমান, হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহসহ টিএমএসএস-এর অন্যান্য হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোটারিয়ান অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম বলেন,
“টিএমএসএস-এর উদ্যোগে সম্পন্ন এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা এখন উত্তরাঞ্চলেও সম্ভব।”
ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন,
“বগুড়ার প্রথম সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট শুধু টিএমএসএস-এর জন্য নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সাফল্যের মাধ্যমে আমরা উত্তরাঞ্চলবাসীর কাছে উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।”
হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন,
“যথাযথ অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল থাকলে আঞ্চলিক পর্যায়েও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসা নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব—আজকের এই অর্জন তারই প্রমাণ। আগামীতেও টিএমএসএস আরও বহু সাফল্যের সাক্ষী হবে বলে আমি আশাবাদী।”
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন,
“এই সাফল্য টিএমএসএস-এর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি উত্তরাঞ্চলের সমগ্র স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এর ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবার সুফল উত্তরাঞ্চলজুড়ে আরও বিস্তৃত হবে।”
চিকিৎসা অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে রোগী মো. মিজানুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“মাসের পর মাস চিকিৎসার পর এক সময় আমি প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা আমার জন্য কখনো হাল ছাড়েননি। মহান আল্লাহর কৃপা, চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা ও টিএমএসএস-এর সফল ট্রান্সপ্লান্টের কারণে আজ আমি বেঁচে আছি। খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবো—এই বিশ্বাস আমার আছে।”
এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ক্যান্সার ও রক্তজনিত জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসায় টিএমএসএস-এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো।