১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৭ বছরের জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজনীতির মাঠে অবিচল ইঞ্জিনিয়ার নূপা: সংরক্ষিত আসনে প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ন
১৭ বছরের জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজনীতির মাঠে অবিচল ইঞ্জিনিয়ার নূপা: সংরক্ষিত আসনে প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ১ মার্চ, ২০২৬

​বগুড়ায় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা লড়াকু নেত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোছাঃ মাজিঁয়া জান্নাতী (নূপা)। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহর বিএনপির ১১ নং ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছরের জেল-জুলুম, হুলিয়া এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার এই নেত্রীকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

​ইঞ্জিনিয়ার মাজিঁয়া জান্নাতী নূপার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০০১ সালে বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে এই সক্রিয়তার জন্য তাকে এবং তার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

​২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাজিঁয়া জান্নাতী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়।

​তিনি যখন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ১১ মাস তিনি কারাভোগ করেন।

​তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে র‍্যাবের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক লিখিত বার্তা পাঠ করতে বাধ্য করা হয় এবং এর সূত্র ধরে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

​গত ১০ বছর ধরে তিনি তার পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।

 

​মাজিঁয়া জান্নাতী মনে করেন, জনসেবা কেবল দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ত্যাগ স্বীকার করাটাই আসল রাজনীতি। তিনি বলেন, "আমরা সবকিছু হাতের নাগালে পেতে চাই—এই মানসিকতার চেয়েও জরুরি হলো দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকা। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে থেকেছি, নির্যাতিত হয়েছি, তবুও আদর্শ বিচ্যুত হইনি।"

 

​বগুড়া শহর বিএনপির ১১ নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা জানান, মাজিঁয়া জান্নাতী নূপা একজন শিক্ষিত এবং পরীক্ষিত নেত্রী। একজন নারী ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আধুনিক বগুড়া গঠনে তার মেধা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ বিবেচনা করে তাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলের কর্মীরা মূল্যায়িত হবে।