নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ২৬ মার্চ, ২০২৬
বগুড়া সদরের চাঞ্চল্যকর আরিফুল ইসলাম মুন্না (৪৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সাইউমকে (৩৬) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে ডিএমপির তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইউম বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় শাহার পুকুর এলাকার মৃত আজিজার রহমানের ছেলে।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুন্নার সাথে আসামি সাইউমের মাদক ব্যবসার লেনদেন এবং পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পাওনা টাকা আদায়ে মুন্না আদালতে একটি চেকের মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এই মামলার জেরে সাইউম ও তার সহযোগীরা মুন্নাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২৩ মার্চ রাত ১০:৫০ মিনিটের দিকে মুন্না দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফাঁপোড় খন্দকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার পথরোধ করে। এ সময় ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে তার পেটে (নাভির নিচে) গুরুতর আঘাত করে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। মুন্নাকে দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ মার্চ সকালে তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে ২৫ মার্চ বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ এবং সিপিসি-২, র্যাব-১ উত্তরা-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে ঢাকার তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাইউমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদ জানান:
"মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে র্যাবের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"