নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
‘ক্রীড়া হলে পেশা, গড়ব সমৃদ্ধ দেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’। শনিবার (২ মে) বেলা ৪টায় দেশের ৬৪ জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ক্রীড়া মহোৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যে ধারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, সেই ঐতিহ্যকে ক্রীড়াঙ্গনে পুনরুজ্জীবিত করতেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই বিশেষ আসরের আয়োজন করেছে।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম খায়রুল বাশারসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। উল্লেখ্য যে, এই ক্রীড়া উৎসবকে ঘিরে জেলা বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।উপস্থিত অতিথিরা অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের উৎসাহ প্রদান করেন।
‘নতুন কুঁড়ি’ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছিল। শুরুতে এটি মূলত সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পায়, যা থেকে উঠে এসেছেন দেশের বহু কিংবদন্তি শিল্পী। ২০২৬ সালের এই আয়োজনে সেই ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র চেতনাকে মাঠপর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূল থেকে আগামীর জাতীয় তারকাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
এবারের আসরে কিশোর-কিশোরীদের জন্য জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যময় সব ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি, ক্রিকেট ও ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও দাবা,অ্যাথলেটিক্স ও মার্শাল আর্ট।জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠন থেকে আগত কয়েক শতাধিক কিশোর-কিশোরী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ ও শৃঙ্খলা তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আসর থেকে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টের প্রাথমিক পর্বের খেলা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমেই উত্তরাঞ্চল তথা সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।