১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর বৃদ্ধির দাবিতে বগুড়ায় বিশিষ্টজনদের র‍্যালী ও সুপারিশ

মিজানুর রহমান আশিক প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ন
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর বৃদ্ধির দাবিতে বগুড়ায় বিশিষ্টজনদের র‍্যালী ও সুপারিশ

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর বৃদ্ধির দাবিতে বগুড়ায় বিশিষ্টজনদের র‍্যালী ও সুপারিশ

 

​বগুড়া প্রতিনিধি:

তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবিতে বগুড়ায় এক বিশাল র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

৬ মে ২০২৬, বুধবার সকাল ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। র‍্যালী পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা ২০৪০ সালের মধ্যে 'তামাকমুক্ত বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর কর এবং মূল্য বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবিত রূপরেখা তুলে ধরেন।

 

​কর্মসূচিতে সুপারিশ পেশকালে ভেনচার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ক্যাব বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুননেছা ফৌজিয়া এবং ক্যাব বগুড়ার সভাপতি লতিফা আকতার বানু জানান, তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা কমাতে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি উভয় ক্ষেত্রে ৮ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

 

​ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের বিষয়ে বক্তারা প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা এবং গুলের মূল্য ৩০ টাকা করার সুপারিশ করেন। এছাড়া এসব পণ্যের ওপর প্রতি ১০ গ্রামে ২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর এবং ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

 

​সাতমাথায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ অকালমৃত্যু বরণ করেন। তামাকের বর্তমান কর কাঠামো সংস্কার করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

 

​র‍্যালীতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন বি ডি এস-এর নির্বাহী পরিচালক দৌলত জামান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আহসান হাবিব খান, শিক্ষক সাকিনা আকতার, ধরিত্রী সমাজসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামিমা আখতার, নির্বাহী পরিচালক জুলেখা, পেস্ট-এর কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম নিরব এবং শিক্ষক জাভেদ রায়হানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে এসব সুপারিশ আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।