পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দেবরকে কুপিয়ে হত্যা: ভাবিসহ ২ জন গ্রেপ্তার
মাজেদুর রহমান: বগুড়ার শিবগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দেবর শাহ আলমকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শিবগঞ্জ থানার সংসারদিঘী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আবু সাইদের ছেলে মো. শাহীন শেখ ওরফে সায়েম (৩২) এবং নিহত শাহ আলমের আপন ভাবি মোছা. আরিফা বেগম (৩২)।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৬ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন বিহার ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে শাহ আলমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঘটনার পর শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে বগুড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে গত ২৬ মে রাতে শিবগঞ্জ থানার সংসারদিঘী গ্রাম থেকে মূল দুই আসামি শাহীন ও আরিফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, নিহত শাহ আলমের ভাই কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে তার স্ত্রী আরিফা বেগমের সাথে শাহীন শেখের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাহ আলম বিষয়টি টের পেয়ে পূর্বে তার ভাবিকে সতর্ক করেছিলেন। গত ১৫ মে রাতে শাহীন শেখ গোপনে আরিফার বাড়িতে আসে। শাহ আলম বিষয়টি বুঝতে পেরে দেশীয় অস্ত্র 'হাসুয়া' হাতে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় পাহারা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আরিফা তার প্রেমিক শাহীনকে বাড়ির পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে গোপনে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে গেটের শব্দ শুনে শাহ আলম সেখানে ছুটে যান এবং দুজনকে একসাথে দেখে ফেলেন।
এ সময় আরিফার প্ররোচনায় শাহীন শেখ শাহ আলমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভাবি আরিফা বেগম দেবর শাহ আলমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে শাহীন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। শাহ আলমও হাসুয়া হাতে নিয়ে তার পেছনে ধাওয়া করেন। দৌড়ানোর একপর্যায়ে শাহীন পাশের একটি ধানক্ষেতে পড়ে গেলে শাহ আলম তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শাহীন উল্টো শাহ আলমের হাত থেকে হাসুয়াটি কেড়ে নিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।