সুজন শাজাহানপুর বগুড়াঃ
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের দহিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে অশালীন স্পর্শ'র অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী (৬০)
সোমবার (৮ জুন) ১১ টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী অভিযোগ করে যে, কয়েকদিন আগে শিক্ষক মোজাহার আলী তাকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়েছেন এবং তার শরীর স্পর্শ করেছেন। অভিযোগটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ যুবক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে উদ্ধার হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য শিক্ষার্থীদের নাচের প্রশিক্ষণ চলছিল। গত ১৮ মে অনুশীলনের সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনে নাচের একটি ভিডিও চালু রেখে অফিস কক্ষে যান। বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই সংযুক্ত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অন্য কোনোভাবে অশ্লীল ভিডিও চালু হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির পর গত কাল ৭ রোববার বিদ্যালয় খোলার পর প্রধান শিক্ষক তাকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি জানান।
পরদিন সোমবার বিদ্যালয় চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করেন এবং কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কিছু প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের প্রভাব থাকতে পারে বলে তারা ধারণা প্রাথমিকভাবে করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বক্তব্য নিয়েছি।
সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর এস আই খোরশেদ জানিয়েছে,আমরা ট্রিপল নাইনের কলের ভিত্তিতে উক্ত বিষয় জানতে পেরেছি, পরবর্তীতে বিদ্যালয় এসে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সার্বিক দিক বিবেচনায় উক্ত শিক্ষককে হেফাজতে আনা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল জানান অভিযোগ ও মারধরের ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।