শাজাহানপুরে হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাঠকর্মী শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম শফিক উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের কামারপাড়া দড়িপাড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় গত ৬ জুন উপজেলার চক চোপিনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাকী মোল্লার ছেলে নাইস হোসেন সুজন শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শাজাহানপুর উপজেলার বিব্লক শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে যোগদান করেন শফিকুল ইসলাম শফিক। পরবর্তীতে অধিক মুনাফা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে এবং মেয়াদ শেষে জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি আব্দুল বাকী মোল্লাকে ১৬ বছর মেয়াদি একটি জীবন বীমা করান।
এরপর টানা পাঁচ বছর ধরে বীমার কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে রসিদ প্রদান করেন শফিক। ভুক্তভোগীর দাবি, এ সময় তিনি মোট ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকা জমা দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এরপর তিনি কিস্তি প্রদান বন্ধ করে জমাকৃত টাকা ফেরত চাইতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শফিকুল ইসলাম শফিক বারবার টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। গত ৩ জুন সকালে তার কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চক চোপিনগর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী জহুরা বেগম বলেন, “আমরা দেখেছি শফিক অধিক মুনাফার কথা বলে গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিমার নামে টাকা সংগ্রহ করেছে। অনেকেই এখন তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।”
আরেক ভুক্তভোগী মারুফা বেগম বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের জমানো টাকা ফেরতের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। শফিক বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।”
শফিকের নিয়োগকারী সদস্য সংগ্রহ কর্মী তাকিয়া আক্তার বলেন, “শফিক আমার মাধ্যমে অনেক সদস্য সংগ্রহ করেছে। অধিক মুনাফার কথা বলে সাধারণ মানুষকে বীমায় যুক্ত করেছে। আমি নিজেও এখন পর্যন্ত আমার প্রাপ্য বেতন পাইনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “টাকা আমি নিইনি। বিষয়টি অফিসের। অফিসে মামলা ও বিভিন্ন জটিলতা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে গ্রাহকরা টাকা পেয়ে যাবেন।”
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, “শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”