কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি দেশের আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বর্তমান কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। দ্রুত ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপজেলা পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৪২টি জেলায় আলু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বগুড়া, মুন্সিগঞ্জ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রাজশাহী অন্যতম। এসব জেলার উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়, যা কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরও দেশে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধির পরও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলু সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজের ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সেই সুযোগে প্রতিবছর স্টোরেজ মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি ৬০-৬৫ কেজি বস্তার ভাড়া ছিল ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এরপর ২০২৫ সালে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন হঠাৎ করে প্রতি কেজি ৮ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করে, যা ৬৫ কেজির একটি বস্তার জন্য ৫২০ টাকা হয়।
আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ এবং কিছু কোল্ড স্টোরেজ মালিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি এলাকায় বস্তাপ্রতি ভাড়া ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। পরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ এর ১৬(খ) ধারার ক্ষমতাবলে ২০২৫ সালের ২ মার্চ কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করে। তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ কেজি আলু সংরক্ষণ করায় অনেক ক্ষেত্রে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের দাবি, বর্তমানে আলুর উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি প্রায় ১৩ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ ২ টাকা ৫০ পয়সা, বস্তা খরচ ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা যোগ হলে প্রতি কেজি আলুর মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ টাকা ৭৫ পয়সা। অথচ সংরক্ষণের পরও কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সেই অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না।
আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোল্ড স্টোরেজের প্রকৃত পরিচালন ব্যয় তদন্ত করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণ করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, বাড়তি কোল্ড স্টোরেজ ভাড়ার কারণে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদেরও বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। তাই কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।