২ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাজাহানপুরে অবৈধ দখলের কবলে মহাসড়ক, ঝুঁকিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

সুজন শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শাজাহানপুরে অবৈধ দখলের কবলে মহাসড়ক, ঝুঁকিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

শাজাহানপুরে অবৈধ দখলের কবলে মহাসড়ক, ঝুঁকিতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

 

সুজন শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

 

দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক-২) প্রকল্পের আওতায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকলেও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। কোথাও ভবনের সিঁড়ি, কোথাও ভবনের বর্ধিতাংশ, আবার কোথাও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে মহাসড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত হাট-বাজার ও দোকান বসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বনানী, মাঝিড়া, সেনাস্মরণী, বি-ব্লক, আড়িয়াবাজার ও নয়মাইল এলাকায় মহাসড়কের জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। অনেক স্থানে ভবনের সিঁড়ি ও বারান্দা মহাসড়কের ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া ইট, বালু, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী রাখায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 পথচারীদেরও বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও মহাসড়ক দখল হয়ে যায়। তাদের দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করে স্থায়ীভাবে মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে হবে।

আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক জানান, আড়িয়া বাজার বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু মহাসড়কের ওপর নিয়মিত বাজার বসায় যানবাহন থামানোর জায়গা থাকে না।

 ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। গত ১১ জুন শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিয়া আক্তার স্কুলে যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়।

 এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য অবৈধ দখলই দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

অভিযোগ রয়েছে, বি-ব্লক এলাকায় মহাসড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক আরজু। আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওই ভবনে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করা মাহফুজ উল্লাহ শামীম স্বীকার করেন, দোকানের কিছু অংশ মহাসড়কের জায়গায় নির্মিত হয়েছে এবং এতে জনগণের চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে একই এলাকায় মহাসড়কের জায়গায় ভবনের সিঁড়ি নির্মাণের অভিযোগ থাকা শিক্ষক মহিউল ইসলাম বলেন, তাঁর মূল সিঁড়ি ভবনের ভেতরে রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের সুবিধার জন্য বাইরে একটি অস্থায়ী সিঁড়ি করা হয়েছে। আশপাশের অনেক স্থাপনাই মহাসড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত হয়েছে; সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাঁরটিও ভেঙে দেওয়া হোক।

উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বনানী থেকে নয়মাইল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক জানান, মহাসড়কটি এখনো সাসেক-২ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হয়নি। ফলে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে তারা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

অন্যদিকে সাসেক-২ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) আহসান হাবীব জানান, নয়মাইল এলাকায় জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই জটিলতার সমাধান হয়েছে। শিগগিরই নয়মাইলসহ শাজাহানপুরের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়ক দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।