শাজাহানপুরে সরকারি বরাদ্দে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ
শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধিঃ
সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের মধ্যে চারা ও সার বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায়। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি গাছের চারা সোজা রাখতে একটি করে আস্ত বাঁশের খুঁটি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে নামমাত্র বাঁশের বাতা বা ফাঁটানো বাঁশ।
কোথাও কোথাও আবার খুঁটিই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা।
এছাড়া বিতরণ করা চারাগুলোর মান নিম্নমানের ও আকারে ছোট ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গাছের চারা সোজা রাখতে আস্ত বাঁশের খুঁটি দেওয়ার সরকারি বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের ফাঁটানো বাঁশ বা বাঁশের বাতা। কিছু স্থানে চারার সঙ্গে কোনো খুঁটিই দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, তারা নির্ধারিত জৈব সারও পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের খুব ছোট ও নিম্নমানের চারা দেওয়া হয়েছে এবং আস্ত বাঁশের খুঁটির পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে নামমাত্র বাঁশের বাতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পথচারী বলেন, উপজেলা থেকে পাওয়া গাছ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে রাস্তার ধারে রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু গাছগুলো খুবই ছোট এবং খুঁটিগুলোও নিম্নমানের। রাস্তার ধারে এমন ছোট গাছ যেকোনো সময় গরু-ছাগল খেয়ে নষ্ট করে ফেলতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সেখানে দেখা যায় আশেকপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেনকে গাছ ফেলে দিতে। জানা যায় গাছ গুলো অতিরিক্ত ছোট হওয়াই তিনি গাছগুলো ফেলে দেন।
মাঝিরা ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, তিনি চারটি গাছ পেয়েছেন, তবে কোনো খুঁটি কিংবা জৈব সার পাননি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারা ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ২ হাজার ১২৫টি আম, কাঁঠাল, জাম, বেল, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
প্রতিটি চারার সঙ্গে পরিচর্যার জন্য ৩০ কেজি করে গোবর সার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়নে পাঁচটি করে গাছ, খুঁটি এবং জৈব সার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শোনার পর কল কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগ করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পরে জানাবেন।
এবিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাইফুর রহমান বলেন প্রকল্প বাস্তবায়নে , কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মুহাম্মাদ শামসসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, জেলায় মোট ২৫ হাজার ৪০০টি চারা বিতরণ করা হচ্ছে। জনপ্রতি ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ার জন্য কেজিপ্রতি চার টাকা হিসেবে ১২০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে বর্তমানে চার টাকা কেজি দরে জৈব সার সংগ্রহ করা কঠিন। এছাড়া বাঁশের দাম বেশি হলেও চিকন তল্লা বাঁশের পূর্ণাঙ্গ খুঁটি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পে কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই। কোথাও অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।