১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না” আহত সাংবাদিক সজিবকে দেখতে গিয়ে বিএনপি নেতা বাশারের আহ্বান

সুজন, শাজাহানপুর প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ন
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না”  আহত সাংবাদিক সজিবকে দেখতে গিয়ে বিএনপি নেতা বাশারের আহ্বান

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না” আহত সাংবাদিক সজিবকে দেখতে গিয়ে বিএনপি নেতা বাশারের আহ্বান

 

সুজন, শাজাহানপুর

 

সন্ত্রাসী হামলায় আহত শাজাহানপুর প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক ও শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সজিবুল আলম সজিব-এর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় তাঁকে নিউরোলজি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার খরনা ইউনিয়ন-এর বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মব (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে তাঁকে মারধর করেন শরিফুল ইসলাম বাদল ও তাঁর সহযোগীরা। পরে থানায় খবর দিয়ে সজিবকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সজিবকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার সজিবের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে শরিফুল ইসলাম বাদল-কে প্রধান আসামি করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

 

নিজেকে একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী দাবি করে শরিফুল ইসলাম বাদল ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “সজিব আমার কাছে চাঁদা নিতে এসেছিল। ক্যাশ ড্রয়ার থেকে টাকা বের করে নেওয়ার সময় আমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। সজিব আমাকে মেরে আহত করে। এ সময় বাজারের লোকজন এসে সজিবকে গণপিটুনি দেয়।”

 

তবে ঘটনার সময় সজিবের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ কাফি সাংবাদিকদের জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে সজিবের ওপর হামলা করা হয়েছে। এটি একটি মব সৃষ্টি করে সংঘটিত হামলা ছিল। আমি এবং সজিব বাদলের অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে সজিবকে কিছু কাগজপত্র দেখানো হয়। এ সময় বাদলসহ কয়েকজন ব্যক্তি সজিবের ওপর চড়াও হন। আমি তখন সজিবকে চলে যেতে বলি। সজিব বের হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর বাদলের লোকজন মোটরসাইকেলে করে গিয়ে তাঁকে মারতে মারতে ধরে নিয়ে আসে। পরে বাদলের অফিসের ভেতরেই তাঁকে আবার মারধর করা হয়।”

 

এদিকে চিকিৎসাধীন সজিবকে দেখতে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে যান আবুল বাশার। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি-এর সাবেক আহ্বায়ক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাজুল ইসলাম, যিনি আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবুল বাশার বলেন, “সজিবের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে কোথাও আইনবিরোধী কোনো কিছু ঘটলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, আহত সজিবেরপরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।