হরিখালী বিজয় কিশোর বালিকা বিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ও শিক্ষার্থী স্থানান্তরের অভিযোগে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
মিজানুর রহমান আশিক (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হরিখালী এলাকায় অবস্থিত হরিখালী বিজয় কিশোর বালিকা বিদ্যালয়-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শ্রী বাজীব প্রসাদ বিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, শিক্ষার্থী প্ররোচনার মাধ্যমে অন্যত্র স্থানান্তর এবং শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ এনে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং তাঁর প্রয়াত পিতা বিজয় প্রসাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে ৭ জন শিক্ষক ও ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এলাকায় একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তিনি ও তাঁর পরিবার ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য পারিবারিক স্বর্ণালংকার বিক্রিসহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ তাহের শেখ, ইংরেজি শিক্ষক মোঃ মানিক মিয়া এবং বিজ্ঞান শিক্ষক মোঃ পিলিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার জন্য বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উক্ত তিন শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীকে অন্যত্র যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন এবং ২ জুলাই থেকে তারা বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে পাঠদান শুরু করেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শেষে বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে শিক্ষকদের এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সোনাতলা থানা এবং সোনাতলা প্রেস ক্লাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রী বাজীব প্রসাদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”