বি ব্লক ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তূপ, চরম দুর্ভোগে পথচারী
সুজন শাজাহানপুর (বগুড়া):
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্টের বি-ব্লক এলাকার ফ্লাইওভারের নিচে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে অঘোষিত ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জনপথটি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা ফেলার কারণে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ। এতে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার পথচারী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট বি-ব্লক ফ্লাইওভারের নিচে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, পচনশীল আবর্জনা ও ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফ্লাইওভারের একপাশে রয়েছে মাঝিড়া সেনানিবাস, পাবলিক স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুল এবং বাজার। অপর পাশে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। প্রতিদিন সেনাবাহিনীর সদস্য, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগীসহ হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে ময়লার স্তূপ জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমান ময়লার স্তূপ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরেই ক্যান্টনমেন্টের নির্ধারিত ডাস্টবিন রয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির অসচেতন মানুষ নিয়ম না মেনে মহাসড়কের পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে অনেকেই ময়লার প্যাকেট এনে এখানে ফেলে রেখে চলে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি জায়গায় ময়লা ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও পরিবেশ নষ্ট করা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাতের আঁধারে অনেকেই এখানে ময়লার পটলা ফেলে রেখে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। এরপরও কিছু মানুষের অসচেতনতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত এই ময়লা অপসারণের পাশাপাশি সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।