জুলাই শহিদ স্মরণে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া প্রেসক্লাব আয়োজিত জুলাই শহিদ দিবস'২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ক্লাব মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেসক্লাব সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক ফেরদৌসুর রহমান। এরপর জুলাই শহীদদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সফল করার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রহিম বগরা, মীর্জা সেলিম রেজা, শফিকুল ইসলাম, সবুর শাহ লোটাস, আব্দুর রহিম, ইনছান আলী শেখ, কালাম আজাদ,রেজাউল হক বাবু, আবুল কালাম আজাদ, মামুন-উর-রশিদ, সানাউল হক শুভ,মোস্তফা মোঘল, আইনুর ইসলাম প্রমুখ।
সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।
সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনকে ইতিহাস বিকৃতিকারীদের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানান। তারা জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুস্বাস্থ্য ও শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
কালাম আজাদ জুলাইয়ে তার জেল জীবনের স্মৃতি স্মরণ করেন। সবুর শাহ লোটাস পলিটেকনিক এলাকায় সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার কথা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি রেজাউল হাসান রানু বলেন, বগুড়া ছিল ৪ আগস্ট মিছিলের নগরী। যে উদ্দেশ্যে শহিদরা আত্মত্যাগ করেছেন সেই বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সফল করতে ৩৬ জুলাইয়ের আদর্শ বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক আব্দুর রহিম বগরা ৩৬ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বগুড়ার প্রতিটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কালাম আজাদকে একটি সেল গঠনের পরামর্শ দেন।
সাংবাদিক মীর্জা সেলিম রেজা বলেন, ঐ সময় যারা লিখেছে তারা জুলাইযোদ্ধা, যারা লেখেনি তারা স্বৈরাচার-মুনাফেক। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সেই সময়ে বগুড়া প্রেস ক্লাব থেকে আন্দোলনকারীদের উপরে গুলি বর্ষনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল ইতিহাস বিকৃত না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই বিরোধীতাকারীদের অনেকেই এখন জুলাই যোদ্ধা।
সাংবাদিক মামুন-উর-রশিদ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পথ বেয়ে এই জুলাই সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই শহিদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে স্মরণিয় রেখেই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহিদ আবু সাঈদ সহ সকল শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ফ্যাসিস্টদের উসকানি দিতো আমাদের পলাতক সহকর্মীরা। এখন তারা সাতমাথায় বসে ষড়যন্ত্র করে। জুলাই আন্দোলনে বগুড়ায় যে ১৭ জন শহিদ হয়েছে তাদের মামলা দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।
সাংবাদিক আইনুর ইসলাম বলেন, আমরা অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে একটি অবস্থানে এসেছি। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
সাংবাদিক সানাউল হক শুভ বলেন, প্রেস ক্লাবে এখনো দোসররা আছে, যারা স্বৈরাচারদের সাথে প্রতিনিয়ত মতবিনিময় করে।
সাংবাদিক ইনছান আলী শেখ বলেন, তখন অনেক সাংবাদিক পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে, সুবিধাভোগীদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে।
গোলজার হোসেন মিটু বলেন, ৪ আগস্ট আমি পেশাগত দায়িত্বপালনকালে পুলিশের হামলায় আক্রান্ত হয়ে তিনঘন্টা অজ্ঞান ছিলাম।
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে আন্দোলনের ছবি প্রকাশ করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা এন.এস.আই কর্তৃক জেরা করা হয়, ভয় ভীতি দেখানো হয় এবং সাময়িকভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়। দুইজন সাংবাদিক আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে এবং আমার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।