বগুড়া সদর উপজেলার কামারগাড়ী এলাকায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতা নাজমুল হুদা ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃদ্ধের পরিবার প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তার পিতা মো. চাঁন মিয়া (৮০), বগুড়া সদর থানাধীন কামারগাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি নিজ বাড়ির সামনে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। এ সময় সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা তার ভগ্নিপতি নাজমুল হুদা ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে সেখানে উপস্থিত হন।
অভিযোগে বলা হয়, তারা বৃদ্ধ চাঁন মিয়াকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং কামারগাড়ীস্থ বসতবাড়ি তাদের নামে দলিল করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বৃদ্ধ এতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার নাক ও মুখে আঘাত লেগে রক্তপাত হয় এবং বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে আহত চাঁন মিয়াকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
মো. আনোয়ার হোসেন আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার মায়ের মৃত্যুর পর পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে ফারায়েজ অনুযায়ী তার বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি যথাযথভাবে দলিলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৬ আগস্ট ২০২১ তারিখে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্য বাবদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রি ও নোটারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ফলে বর্তমানে জীবিত পিতার সম্পত্তিতে অন্য কোনো ওয়ারিশের দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত নাজমুল হুদা পূর্বেও বৃদ্ধ চাঁন মিয়াকে একাধিকবার হেনস্তা করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে আহত চাঁন মিয়া চিকিৎসা গ্রহণের পরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করা হয়।