১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রেলওয়ের লিজকৃত জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা অপসারণের দাবি ব্যবসায়ীদের

বগুড়া প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ন
রেলওয়ের লিজকৃত জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা অপসারণের দাবি ব্যবসায়ীদের

রেলওয়ের লিজকৃত জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা অপসারণের দাবি ব্যবসায়ীদের

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়া শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বৈধভাবে লিজ (লাইসেন্স) নেওয়া জমিতে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার পরও তারা বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বুধবার বগুড়া শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়া রেলওয়ের চকবৃন্দাবন মৌজার আরএস দাগ নং ৭২৪-এর প্রায় ৯৬ শতাংশ জমি তারা বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বৈধভাবে লিজ গ্রহণ করেছেন। ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে তারা নিয়মিত নির্ধারিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লিজকৃত জমির শ্রেণি পূর্বে ‘পুকুর’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে সেটি ভিটা বা বাণিজ্যিক উপযোগী ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জমির শ্রেণি সংশোধনের আবেদন করে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চকবৃন্দাবন মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৩ ও

আরএস দাগ নং ৭২৪-এর ১.২৮ একর জমি একসময় কৃষি ও জলাশয় হিসেবে লাইসেন্স দেওয়া হলেও কালের বিবর্তনে তা প্রাকৃতিকভাবে ভরাট হয়ে ভিটা/বাণিজ্যিক ভূমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। পরবর্তীতে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পূর্বের লাইসেন্স বাতিল করে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদান করে, যার মাধ্যমে প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত শেষে ভূমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং জমিটি বর্তমানে কৃষি শ্রেণির পরিবর্তে ভিটা হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, অনলাইন রেকর্ডেও এ তথ্য দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকার কথা নয়। তাই তারা লিজকৃত জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চান।

তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের স্থাপিত টিনের বেড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তারা বলেন, অন্যদের মতো তারাও বৈধভাবে রেলওয়ের জমি লিজ নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছেন এবং আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী।

এদিকে এ জমি নিয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের শুনানি আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, অভিযোগের শুনানি নিষ্পত্তির আগেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে একটি রিট পিটিশন হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছিল। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট রিট পিটিশন গ্রহণ না করে খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো বিচারিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ নেই বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বৈধ লিজ ও লাইসেন্সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।