বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নে চালিতাবাড়ি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আতিকুর রহমান সাগর (২৯) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটের সময়। এই ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
নিহত সাগর শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য। সে বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া হাট এলাকার শাহাদত হোসেন ও সাজেদা বেগমের পুত্র বলে জানা গেছে। নিহত সাগরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সাগরের স্ত্রী মারজিয়া আক্তার জানান, সাগরের বাড়ি পাঁচবাড়িয়া গ্রামে হলেও সে বেশ কয়েক মাস যাবত পার্শ্ববর্তী চালিতাবাড়ি গ্রামে শশুরবাড়িতে বসবাস করতো। বুধবার রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে সাগর নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেতে আসলে দুর্বৃত্তরা সাগরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
তার কিছুক্ষন পরেই বাহিরে হৈচৈ শুনে তিনি বের হন। এ সময় পাশের বাড়ির উঠানে সাগরকে রক্তাক্ত ও কর্দমাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আহত অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও শত্রুতার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ মাহফুজ আলম বগুড়া টাইমস নিউজে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকেই সাগরদের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই প্রেক্ষিতে সাগরের উপরে হামলা করে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সে মারা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।