স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজকে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
দেশের প্রতিটি যুবক ও যুব নারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষিত বেকার যেন ঘরে বসে না থাকে, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার যুব সমাজকে পরনির্ভশীল নয়, বরং কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
রবিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির এই প্রশিক্ষণের জন্য ৮৩ হাজার আবেদনকারী থেকে বাছাইকৃত ১ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক ও অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
বিগত সময়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "গত ১৭ বছরে প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের নামে শুধু অর্থের অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার সে ধরনের সুযোগ দিতে চায় না। কেবল প্রশিক্ষণ প্রদানই নয়, বরং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য যুব সমাজের কর্মসংস্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজও তৈরি করা হবে।"
বগুড়াকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরে মো. আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বগুড়াকে একটি ‘ডিজিটাল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ মডেল সফল হলে দেশের বাকি ৬৪টি জেলাতেও একই আদলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে।
ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, বগুড়াসহ দেশের ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলাতেই এ ধরনের স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের ৫০০ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে মাসিক ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলাকে শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, এআই প্রকল্পের পরিচালক মো. আতিকুর রহমান, সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসেন আরা বেগম, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম এবং সফল ফ্রিল্যান্সার রিপন কুমার।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ২৪ জন সফল ফ্রিল্যান্সারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত আটজন সফল ফ্রিল্যান্সারকে উৎসাহ প্রদানের জন্য ল্যাপটপ এবং এআই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।