জয়পুরহাটে আখক্ষেত থেকে গলিত মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার
মোঃ মোকাররম হোসাইন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
২৫.৮.২৬
জয়পুরহাট সদরের গ্রামাঞ্চলে আখক্ষেত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলিত মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কঙ্কালটি সদর উপজেলার জিতারপুর এলাকার একটি আখ ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহ সনাক্ত করতে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জিতারপুর এলাকার একটি আখক্ষেতে কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ আখক্ষেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল অনেকে আগেই। শরীরের মাংস পঁচে এখন কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে কঙ্কালটি পুরুষ না মহিলা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
জয়পুরহাট সদর থানার ওসি তদন্ত আবু শাহীন কাদির জানান, মরদেহটি পঁচে গিয়ে কেবল কঙ্কাল অবশিষ্ট থাকায় এটি পুরুষ না মহিলার, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে এবং পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও পরিচয় জানা যাবে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া এক অটোভ্যান চালকের বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তারা বারবার কঙ্কালের নিকটে গিয়ে নিখোঁজ অটোভ্যান চালক ফরিদের বলে দাবি করেছেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল ইসলাম জানান, গত ২০ আগস্ট সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপীরহাট গ্রামের ফরিদ হোসেন অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আজও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে নিখোঁজ ফরিদের অটোভ্যানটি উদ্ধার করে এবং ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
আজ উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের সাথে থাকা পোশাক দেখে উদ্ধারকৃত অবশিষ্টাংশ নিখোঁজ অটোভ্যান চালক ফরিদেরই বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।