১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় লোকনৃত্যে স্বর্ণজয়, শাজাহানপুরের ৭ বছরের শিশু রংধনুর

সুজন, শাজাহানপুর প্রতিনিধি: প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
জাতীয় লোকনৃত্যে স্বর্ণজয়, শাজাহানপুরের ৭ বছরের শিশু রংধনুর

জাতীয় লোকনৃত্যে স্বর্ণজয়, শাজাহানপুরের ৭ বছরের শিশু রংধনুর

 

সুজন, শাজাহানপুর প্রতিনিধি:

 

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর গ্রামের কৃতী সন্তান শিশু আর জেড রংধনু জাতীয় পর্যায়ের নৃত্য প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে অর্জন করেছে ‘সেরার সেরা’ স্বর্ণপদক। 

মাত্র সাত বছর বয়সেই তার এমন সাফল্যে গর্বিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

 

দেশব্যাপী আয়োজিত ‘নৃত্যময় দেশ’ জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর ‘ক’ গ্রুপে একক লোকনৃত্যে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আর জেড রংধনু। 

পরে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে সেরা হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করে সে।

 

আর জেড রংধনু চোপীনগর গ্রামের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. মনিরুজ্জামান স্বপন ও ডা. রাফসানা জাহান দীপা দম্পতির সন্তান।

 বর্তমানে সে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যকলা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নৃত্যচর্চা করছে।

 

ছেলের জাতীয় পর্যায়ে এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা ডা. রাফসানা জাহান দীপা বলেন, আমি নিজেও ছোটবেলায় নাচ করতাম। সেই ভালোবাসা থেকেই ছেলেকে নৃত্য শেখানোর স্বপ্ন জাগে। এত অল্প বয়সে জাতীয় পর্যায়ে তার এই অর্জন সত্যিই আমাকে অভিভূত করেছে। মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া।

 

বাবা ডা. মো. মনিরুজ্জামান স্বপন বলেন, ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি ছেলের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। তার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছি। মাত্র সাত বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার প্রতিভা বিকাশে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

 

নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে হাসিমুখে ছোট্ট রংধনু বলে, আমি বড় হয়ে নামকরা নৃত্যশিল্পী এবং সার্জন ডাক্তার হতে চাই। বাবা-মা ও শিক্ষকের অসাধারণ দিকনির্দেশনার কারণেই আমি এই পদক পেয়েছি।

 

শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক ও বারবারের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত তিতুমীর বলেন, শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ের এমন অর্জন আমাদের সব পরিশ্রমকে সার্থক করে তোলে। রংধনু অত্যন্ত প্রতিভাবান। সঠিক গাইডলাইন ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে সে ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

 

মাত্র সাত বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের ঘটনায় চোপীনগরসহ শাজাহানপুর ও বর্তমান ঠিকানা শেরপুরের হাসপাতাল রোডের এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও শিক্ষকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও রংধনুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন।

 

নৃত্যচর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় অর্জন বয়ে আনতে চায় ছোট্ট আর জেড রংধনু। তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে তার পরিবার।