১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাজাহানপুরের ঝুঁকিপূর্ন অবস্হায় চলছে পাঠদান শাহানগরগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে

সুজন শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ন
শাজাহানপুরের ঝুঁকিপূর্ন অবস্হায় চলছে পাঠদান শাহানগরগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে

শাজাহানপুরের ঝুঁকিপূর্ন অবস্হায় চলছে পাঠদান শাহানগরগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে

 

সুজন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

 

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের সদরে অবস্হিত শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি আধাপাকা শ্রেণিকক্ষ ভবন পুকুরে ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 ভবনের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি পুকুরে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১০ জন ছাত্রী এবং ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

 ২০০০ সালে স্থানীয় দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়নে পুকুরপাড় থেকে মাত্র ছয় ফুট দূরে চার কক্ষ-বিশিষ্ট আধাপাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির পাশে কোনো গাইড ওয়াল না থাকায় পুকুরের পানির চাপে ধীরে ধীরে ভবনের তলদেশের মাটি সরে যেতে থাকে। 

একপর্যায়ে ভবনের নিচে বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হয়েছে।

 

বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের পাঠদান করা হচ্ছে। ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় সেটি পুকুরে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে আধাপাকা শ্রেণিকক্ষ ভবনটি। 

পানির চাপে ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ফাঁকা তৈরি হয়েছে। পুকুরের পানি ও পাড়ের মাটির বর্তমান অবস্থায় ভবনটির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে ছাত্রীদের।

 

সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ভবনের নিচের মাটি সরে গেছে এবং পুকুরের পাড়ও পর্যাপ্ত প্রশস্ত নয়। ক্লাস করার সময় ভীষণ ভয় লাগে। বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, বিচ্ছু, কেঁচোসহ পানিতে ও পাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় যেকোনো সময় শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

 

অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি, জোঁকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। আতঙ্কের মধ্যে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। সব সময় মনে হয়, যেকোনো সময় পুরো ঘরটি পুকুরে পড়ে যেতে পারে।

এ দিকে এমন অবস্থায় বিদ্যালয় সংস্কারবন্ধ থাকায় বাসাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল বারী বলেন, ভবনটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। পুকুর মালিককে পাড় বাঁধার জন্য অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে বিদ্যালয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

 

তবে পুকুর মালিক আজিজার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্কুলের জায়গাটি আগে ধানক্ষেত ছিল। ভবন নির্মাণের ফলে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। ভবন নির্মাণের সময়ও পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। পাশাপাশি শাহনগর হাটের পানিও এখানে জমা হয়। 

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণেই মাটি ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হাটের কিছু অংশও পুকুরে ধসে গেছে।

 

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা বলছেন, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ভবন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

অভিভাবক ও স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের জীবন সুরক্ষায় অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের অংশ ও পুকুরের অংশ সম্পূর্ণ আলাদা করা, পুকুরপাড়ের মাটি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।